সংঘাত থেকে সংলাপে দুই দেশ, তেলের বাজারে ফিরল স্থিতিশীলতা

  • জুন ১৮, ২০২৬
  • 1 min read
সংঘাত থেকে সংলাপে দুই দেশ, তেলের বাজারে ফিরল স্থিতিশীলতা

মধ্যপ্রাচ্যকে ঘিরে কয়েক সপ্তাহের উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তার পর আন্তর্জাতিক বাজারে স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন কূটনৈতিক অগ্রগতি। দুই দেশের মধ্যে প্রাথমিক সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরের খবর প্রকাশের পরই বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম কমতে শুরু করেছে। একই সঙ্গে ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে এশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজার।

বৃহস্পতিবার এশিয়ার লেনদেনের শুরুতে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ২ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৭৮ ডলারের সামান্য ওপরে নেমে আসে। বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যুদ্ধ পরিস্থিতি নতুন করে জটিল আকার নেবে—এমন আশঙ্কা আপাতত কমে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীরা আবার ঝুঁকি নিতে শুরু করেছেন।

এর আগে বুধবার পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন। কয়েক দিনের দরপতনের পর হঠাৎ করেই তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮১ ডলার ছাড়িয়ে যায়। মূলত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক বক্তব্যে বাজারে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। তিনি ইঙ্গিত দেন, ইরান প্রত্যাশিত আচরণ না করলে সামরিক পদক্ষেপ পুনরায় শুরু হতে পারে। তার এই মন্তব্যের পর জ্বালানি বাজারে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা বাড়ে এবং দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়।

তবে পরদিন দুই দেশের মধ্যে সমঝোতার খবর সামনে আসতেই বাজারের চিত্র বদলে যায়। বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরে আসার প্রভাব পড়ে বৈশ্বিক পুঁজিবাজারেও। জাপানের নিক্কেই-২২৫ সূচক ২ শতাংশের বেশি বেড়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার কোসপি সূচকেও প্রায় একই ধরনের ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। এছাড়া তাইওয়ানের তায়েক্স সূচকও উল্লেখযোগ্য উত্থান ধরে রেখেছে।

শুধু এশিয়াই নয়, ইতিবাচক বার্তা পৌঁছেছে ওয়াল স্ট্রিটেও। যুক্তরাষ্ট্রের এসঅ্যান্ডপি ৫০০ ও প্রযুক্তিনির্ভর নাসডাকের অগ্রিম সূচক ঊর্ধ্বমুখী অবস্থান দেখিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমার ইঙ্গিত বিশ্ব অর্থনীতির জন্যও ইতিবাচক বার্তা বহন করছে।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক ধাপ হিসেবে ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’-এ স্বাক্ষর করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। ফ্রান্সে শিল্পোন্নত দেশগুলোর জোটের সম্মেলনে অংশ নেওয়ার সময় ট্রাম্প এ নথিতে স্বাক্ষর করেন। পরে তেহরানে নিজ কার্যালয়ে একই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান।

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই কূটনৈতিক উদ্যোগ বাস্তবায়নের দিকে এগোতে পারলে শুধু দুই দেশের সম্পর্কেই নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে না, বরং বিশ্ব জ্বালানি ও আর্থিক বাজারেও দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা ফিরে আসতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *